February 28, 2026, 11:13 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :

ঝিনাইদহে ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ২৩০,হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের বিদ্যুৎ নিয়ে অভিযোগ

 

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক,  ঝিনাইদহ/

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৬৭ জন রোগী ভর্তি আছে। মঙ্গলবার ৫৯১ টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩০টি। জেলায় এ পর্যন্ত ১০৮ জনের করোনায় মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় ডেথ ফেবিয়ায় ভুগে মনোবল হারাচ্ছেন বলে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ। জেলায় এ পর্যন্ত নমুনা সংগৃহিত হয়েছে ১৯২০১টি। যার মধ্যে ফলাফল পাওয়া গেছে ১৮৩৭৩টি। মোট নমুনার মধ্যে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ৫০২০টি। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের পুরাতন ভবন পুরোটি এখন করোনা রোগীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। আবার অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাচ্ছেন অনেকেই। অক্সিজেনের সল্পতা নেই এখন হাসপাতালে। পর্যাপ্ত মজুদ আছে। তবে হাসপাতালের বিদ্যুৎ ব্যাবস্থার  জন্য ডেথ ফেবিয়ায় ভুগছেন রোগীরা।

করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৩ দিন ভর্তি ছিলেন শৈলকুপার হাট ফাজিলপুর এলাকার হুরাইয়রা নামের এক রোগী। তিনি এখন বাড়িতে চিকিৎসা  নিচ্ছেন   ।

তিনি জানান, হাসপাতালে বিদ্যুৎ যেয়ে ১৫ মিনিট পর্যন্ত পরে আসছে। ওয়ার্ডের মধ্যে ফ্যান না ঘুরলে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থায় তৈরি হচ্ছে। মনে  হচ্ছে এই বুঝি মারা গেলাম। বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে ৬দিন আছে সদর উপজেলার দহিজুড়ি গ্রামের সোহাগ হোসেন। তিনিও অভিযোগ করেন হাসপাতালে বিদ্যুৎ খুব বেশি আসা যাওয়া করছে। বিদ্যুৎ চলে গেলেই কেমন দম বন্ধ হয়ে যাওয়া পরিবেশ তৈরি   হচ্ছে। এতে করে ভর্তি রোগীদের মনবলের চরম ক্ষতি হচ্ছে। হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা.হারুন অর রশিদ জানান, হাসপাতালে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যাবস্থাও রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করে না আসলে জেনারেটর চালু করি। বিদ্যুতের আহামরি কোন সমস্যা নেই। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য   কর্মকর্তা ডাঃ শামীম কবির জানান, করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে মনোবল খুবই গুর“ত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক মানুষই যদি ডেথ ফেবিয়ায় ভোগে তাহলে তার শরীরে সাইটোপেনিকের মাত্রা বেড়ে গিয়ে গা ঘামা,শ্বাস-প্রশ্বাসের মাত্রা বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে হৃদরোগ পর্যন্ত হতে পারে।কাজেই করোনা রোগীদের মনোবল ঠিক রাখতে পারলে চিকিৎসায় সুবিধা হবে।

বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ কামাল হোসেন জানান, এই সময়ে রোগীর শরীর থেকে স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ হতে থাকে। এতে রোগীর হৃদরোগের ঝুকি বাড়ায়। যে কোন সময় ষ্ট্রোক করতে পারে। তখন মৃত্যু ভয় কাজ করে। চিকিৎসার ভাষায় বলে ডেথ ফোবিয়া। তিনি বলেন, করোনা ছাড়াও যে কোন রোগ হলে হার্ট দুর্বল হয়ে যায়। ফলে রোগীর মনোবল বাড়াতে দরকার দ্র“ত সমস্যার সমাধান। বিদ্যুৎ না থাকার কারণ ছাড়াও নানা সময় রোগীর মনোবল ভেঙ্গে যেতে পারে। মনোবল চাঙ্গা করতে রোগীদেরকে আশ্বস্ত করাই তখন একমাত্র সমাধান বলে তিনি মনে করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net